ডোপামিন ডিটক্স বই

ডোপামিন ডিটক্স বাংলা বই রিভিউ

ডোপামিন ডিটক্স বইটা পড়লাম । এই বইয়ের বেশ কিছু কথা ভাল লেগেছে । আমার মনে হয় যারা এই ডোপামিনের ফাঁদে পড়েছেন সকলেরই জানা উচিত ।

স্পয়লারঃ অনেক বড় পোস্ট । সময় কম থাকলে এড়িয়ে যেতে পারেন । যদিও এড়িয়ে গেলে আপনি ডোপামিনের ফাঁদে পড়ে যাবেন 😛

ডোপামিনের ব্যাপারে হয়তো অনেকেই শুনে থাকবেন । এটি হচ্ছে এক ধরণের হরমোন যেটা আমাদেরকে আনন্দের অনুভূতি দেয় বিশেষ করে আমরা যখন কোন পুরষ্কার পেতে যাই । উদাহরন হিসেবে বলতে পারি, আপনি যখন কোন কিছু পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকবেন যেটা আপনাকে আনন্দ দিতে পারে সেই পাওয়ার পূর্ব মুহুর্তে এক ধরণের ভাল লাগার অনুভূতি কাজ করে । এই ভাল লাগার অনুভূতি হওয়ার পেছনে ডোপামিন হরমোনের হাত আছে । এই সময়টাতে আমাদের আমাদের মস্তিষ্কে এই হরমোন নিঃসৃত হয় ।

এবার বলি সমস্যাটা কোথায়? বর্তমান সময়টা এখন এমন হয়েছে যে, আমাদের ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হওয়ার কারণের উপায় নেই । যেমন ফেসবুকে কোন পোস্ট করলে, একটু পরে আমরা চেক করি কতজন লাইক দিয়েছে বা কে কি কমেন্ট করল । এই যে মনে মনে একটা অপেক্ষা করে থাকি, এই অপেক্ষার সময়টাতে আমাদের ভেতরে ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হয়ে ভাল লাগা কাজ করে । এতে প্রচুর সময় ব্যয় হয় । আবার ফেসবুক বা ইউটিউবে একটা ভিডিও দেখলে যদি ভাল লাগে বা বেশি সময় ব্যয় করি ফেসবুক বা ইউটিউব অ্যালগরিদম বুঝে ফেলে আমাদের কি ধরনের কনটেন্ট পছন্দ ।

তাই সেই একই ধরণের ভিডিও তারা আমাদেরকে বার বার দেখাতে থাকে আর আমরা সেই কনটেন্ট দেখতে থাকি । আমরা নিউজ ফিড স্ক্রল করতেই থাকি নতুন কিছু দেখার বার পাওয়ার আশায় । এই সময়টাতে আমাদের মধ্যে প্রচুর ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত হতে থাকে । এজন্য আরো বেশি বেশি নতুন কিছু পাওয়ার অনুভূতি পেতে চাই । ফলাফল হিসেবে দিনের বড় একটা সময় অপচয় হয়ে যায় । যদিও এই কনটেন্ট গুলো দেখে আমাদের বাস্তবিক জীবনে কোন কাজে আসে না যেটা আমাদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টে কাজে আসতে পারে ।

এবার বলি, সোশ্যাল মিডিয়া কেন আমরা প্রচুর সময় নষ্ট করে ফেলি অথচ পড়ালেখা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট কিংবা বই পড়া এসবে কেন যথেষ্ট সময় ধৈর্য সহকারে দিতে পারি না । যদিও পোস্ট অনেক বড় হয়ে গেছে অলরেডি । কিন্তু এই ব্যাপারটা বলা দরকার । আমরা যখন ফেবসুকে বা ইউটিউবে বা অনলাইনের যেকোন সাইটে ভিজিট করি মজার অনেক কিছু দেখতে পারি, সবচেয়ে বড় কথা তারা আমাদেরকে আমাদের পছন্দের কনটেন্ট শো করে কারণ আমাদের এক্টিভিটি দেখে তারা অলরেডি জানে আমরা কি দেখতে পছন্দ করি । একারণে আমরা অনেক সময় ধরে সেখানে থাকি । অথচ একটা টেক্সট বই পড়া বা ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট করার জন্য কোন কোর্স করা এসব তুলনামূলক কম আনন্দদায়ক । কারণ এগুলো আমাদের দরকার বলেই করতে হয় ।

একারণে মস্তিষ্কের ডোপামিন পর্যাপ্ত নিঃসরণ হয় না । মস্তিষ্কে অবচেতন ভাবে এটা চলে আসে যে এই টেক্সট বই বা নন ফিকশন বইটা না পড়ে ইউটিউবে গেলে আমি বেশি আনন্দদায়ক জিনিস দেখতে পারব । একারণেই আমাদের আর আসল কাজ করা হয়ে ওঠে না । কারণ অলরেডি বেশি আনন্দদায়ক কাজের প্রতি আমরা বেশি এটাচড । যদিও সেটা আমাদের প্রচুর সময় নষ্ট করে ফেলতে পারে বা সেটা আমাদের জন্য ক্ষতিকর ।

সব কিছুরই একটা লেভেল থাকে । শখের জিনিস আর কাজের জিনিস তো আর এক না । শখের জিনিস সাধারণত বেশি ভাল লাগবে । তাই শখের জিনিসে একটা লিমিট রাখা উচিৎ । আমরা যাতে আসল কাজকর্মে বেশি মনোযোগ দিতে পারি বা আসল কাজেও মজা পাই । এজন্য বলা হয়, সেই কাজেই ক্যারিয়ার তৈরী করা উচিত যেটা আমাদের ভাল লাগবে । কিন্তু যেই কাজ আগে থেকে ভাল লাগে না, সেটাও ভাল লাগা সম্ভব যদি একটা চর্চার মধ্যে থেকে ধৈর্য ধরে কাজ করে যাওয়া যায় ।

এখন আমাদের কাজ কি? কাজ হচ্ছে এই অহেতুক ডোপামিন হরমোনের প্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া । এটার জন্যই আমাদেরকে জানতে হবে কোথায় সঠিক সময় ব্যয় করতে পারি । এটাকেই বলে ডোপামিন ডিটক্স । এই কার্য সাধনের জন্য বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে । একটা কুইক উপায় বলি, সোশ্যাল মিডিয়ার বেড়াজাল থেকে মুক্তি পাওয়ায়র জন্য নোটিফিকেশনের কুইক একসেস পাওয়া বন্ধ করতে হবে ।

এজন্য মোবাইল থেকে অ্যাপ টাই ডিলেট করে দেওয়া যেতে পারে । তাহলে অনেকাংশে সোশ্যাল মিডিয়ার অহেতুক ব্যবহার কমে যাবে । কারণ আমাদের ব্রেইন অবচেতন ভাবেই জানে যে, ফেসবুকে ঢুকলেই আমি মজার মজার পোস্ট, meme দেখতে পারব যেটা আমাকে আনন্দ দিবে । এই আনন্দ পাওয়ার আশাই আমাদের অনেক সময় ফেসবুক অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়াতে এটাচড করে রাখবে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This will close in 0 seconds