4p in business | Ashiqur Rahaman

ব্যবসায় 4P | 4p কী | গুরুত্বপূর্ণ 4 টি পয়েন্ট

যারা গতানুগতিক চাকরি থেকে বেরিয়ে ভিন্ন কিছু করতে চাচ্ছেন, বিশেষ করে ব্যবসা করতে বা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন তাদের জন্য কিছু ব্যাপার যেগুলো মাথায় রাখা উচিত ।

4p কী?

4p দ্বারা কি বুঝায় সেটা জানার আগে প্রথমেই বলে নেই 4 টি P এর ডেফিনিশন-

Product, Price, Place, Promotion

এই চারটাকে সংক্ষেপে 4P বলে । মার্কেটিং এর 4p হিসেবেও এটি পরিচিত । এটা একটা চমৎকার অর্থ বহন করে । যেটা মাথায় রাখতে পারলে ব্যবসার ক্ষেত্রে অনেক উপকার পাওয়া যাবে । একটা একটা করে ব্যাখ্যা করি ।

তার আগে বলি যেকোন ব্যবসায় এই চারটি জিনিস কিন্তু ভালভাবেই পরিলক্ষিত হয় । ব্যবসা বাণিজ্যে ভাল করতে গেলে এই কী-পয়েন্ট গুলোতে ভাল করতে পারলে সাফল্য অর্জন করা যাবে অনেক ভালোভাবে । এই থিওরিগুলো বেশ প্রসিদ্ধ ও প্রচলিত ।

PRODUCT

ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রোডাক্ট কিন্তু অবশ্যই লাগবে । না হলে ব্যবসা হবে না । সার্ভিস এর ক্ষেত্রে হয়তো সরাসরি প্রোডাক্ট লাগে না কিন্তু এটাও প্রোডাক্টের মধ্যে পড়ে । সহজ কথায় যেটা বেচা যায় আর টাকা পাওয়া যায় । তো এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল উপাদান ব্যবসার জন্য । আপনাকে এটার পেছনে সময় দিতে হবে । বুঝতে হবে এটার ভোক্তা কারা হতে পারে । কাদের কাছে বিক্রি করতে চাইলে কেনার কথা ভেবে দেখবে । ভেবে দেখাটাও কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ । কারণটা নিচে বলছি ।

আপনি যদি স্কেটবোর্ড বেচতে চান এবং চিন্তা করেন এটা কিনবে বয়স্ক ব্যক্তিবর্গ তাহলে কিন্তু কাজ হবে না । বয়স্ক ব্যক্তিরা বুড়ো বয়সে ভীমরতি না হলে স্কেটবোর্ড নিয়ে সহজে রাস্তায় নামবে না । কারণ কে চায় এই বয়সে ঠ্যাঙ ভাঙতে?

এজন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ । প্রোডাক্ট হতে হবে বিশ্বাসযোগ্য ।

যদি এনার্জি ড্রিংক্স বেচতে চান আর বলেন এটা খেলে সত্যি সত্যি চাঁদের দেশের পৌছানো যাবে এক লাফে তাহলে এটা বিশ্বাসযোগ্য হবে না আর কেউ কিনবেও না ।

বাজারে এটার চাহিদা আছে নাকি সেটাও রিসার্চ করে দেখতে হবে । যতরকম সমস্যা থাকতে পারে ওই প্রোডাক্ট নিয়ে ভেবেচিন্তে এরপর সলিউশনটা করতে হবে ।

PRICE

প্রাইস নিয়ে বলার আগে ভেবে দেখেন তো এরকম হয়েছে কি না, বেড়াতে গিয়েছেন কিন্তু কোন কিছু কিনতে গিয়ে দেখলেন বিরাট দাম । তখন দাম দেখে হয়তো জিনিসটা কিনলেনই না । এরকমটা কিন্তু হয়ে থাকে প্রায়ই ।

বাঙালি যেখানেই যাক না কেন কিছু কেনার ক্ষেত্রে দাম দেখে আগে । স্বাভাবিক ব্যাপার । দোকানদার যদি হয় বাঙালি সেও দাম বেশি রাখে লাভ বেশি করার জন্য আর অন্য জন ও বেশি দাম রাখলে কিনতে চায় না । কাটাকাটি । যাইহোক এইসবে না যাই ।

কথা হচ্ছে আপনি একটা প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বানালেন । কিন্তু দাম রাখলেন আকাশচুম্বী । তাহলে কেউ কিনবে না । প্রোডাক্ট যেমন হবে তুলনামূলক বাজারের চাহিদা, কম্পিটিশন, উৎপাদন খরচ, প্রোমোশন খরচ ইত্যাদি বিচার বিশ্লেষণ করে দাম নির্ধারণ করতে হবে । তবে অনেক কমও যদি রাখেন তাহলে আবার ব্যবসা বড় করা কঠিন হয়ে যাবে । তখন দিন আনি দিন খাই অবস্থা হয়ে যাবে । ব্যবসা বৃদ্ধি করতে কষ্ট হয়ে যাবে । সবচেয়ে ভাল হয় প্রতিদ্বন্দীরা কত দাম রাখছে সেটা ফলো করা । হয় তাদের থেকে কিছু কম রাখা বা সেম দামে বেশি ভ্যালু দেওয়া, বেস্ট অপশন । যাইহোক সঠিক দাম রাখতে পেরেছেন তো ব্যবসায় ভাল করেছেন । কেউ আশা করি অস্বীকার করবেন না তাহলে পরের পার্টে যাই ।

PLACE

এটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্ট । প্লেস বলতে স্থানকেই বোঝানো হয়েছে । আপনার প্রোডাক্টটা কোথায় লঞ্চ করবেন সেটার গুরুত্ব অনেক ।

ধরুন আপনি ঠিক করলেন অনলাইনে সুপার মার্কেটের আইটেম বিক্রি করবেন । এখন অফিস বা পিক আপ পয়েন্ট বানালেন এমন একটা জায়গায় যেখানে মোবাইলের নেটওয়ার্ক ই পাওয়া যায় না । তাহলে কি হবে? যেখানে মানুষ ইন্টারনেটই ঠিকমত ব্যবহার করতে পারে না সেখানে অনলাইনে কিভাবে প্রোডাক্ট অর্ডার করবে? তো সেই জায়গাটা কিন্তু সঠিক স্থান না । অথবা আপনার ভোক্তাশ্রেণি বেশিরভাগ কোথায় থাকে? সেটাই হতে পারে আপনার প্রোডাক্ট লঞ্চ করার বেস্ট স্থান । এভাবে সঠিন প্লেস বা স্থান নির্ধারণ করতে হবে অবশ্যই ।

আরেকটি উদাহরণ, আপনি ফোন বা গ্যাজেট আমদানি করে বিক্রি করবেন ঠিক করলেন । এখন সেগুলো কি মুদি দোকানে বিক্রি করা যাবে আলু-পেয়াজের সাথে? অবশ্যই না । এগুলো খুবই হাস্যকর বা বেসিক শোনালেও কমন প্রোডাক্টের বেলায় এরকম হয় । কিন্তু আপনি যখন ইনোভেটিভ চিন্তা করবেন ও নতুন কিছু আনার চেষ্টা করবেন তখন দেখবেন এটা বেশ ভাবনা-চিন্তার ব্যপার হয়ে দাঁড়াবে । একারণে এটা নিয়ে রিসার্চ করতে হবে ।

PROMOTION

সব ঠিক আছে । একদম টপ নচ । খুবই ভাল কথা কিন্তু ভাই/আপু যদি প্রোমশন না করা হয় তাহলে বাৎসরিক রেভেনিউ কত হবে জানেন? প্রায় শুন্য । হুম শুন্য বলাই ভাল ।

আপনি ব্যবসা করছেন টাকা আয়ের জন্য । টাকা যখন কামাইতেই হবে তাহলে ভালোভাবে কামাইতে হবে । আপনার ব্যবসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্চে এই প্রোমোশন বা মার্কেটিং বা বিজ্ঞাপন যেটাই বলেন । এটা আপনাকে করতেই হবে ব্যবসায় সাফল্য পেতে, টিকে থাকতে হলে । যেসকল কোম্পানিত যত বেশি ক্রিয়েটিভ তাদের পণ্যের মার্কেটিং এর জন্য তাদের সাফল্যের হার তত বেশি । হ্যা এটাই স্বাভাবিক । আপনি দোকানে গেলে বিস্কুট কিনতে । যেই কোম্পানির বিস্কুটের বিজ্ঞাপন বেশি দেখেছেন বা যাদের কথা আপনার মাথায় আছে তাদের বিস্কুট ই কিনে ট্রাই করে দেখতে ইচ্ছা করবে আপনার । এটাই নর্মাল । যেসব মোবাইল ফোন কোম্পানি বেশি ভাল মার্কেটিং করতে পারে তাদের ফোনই চলে বেশি । কথায় আছে ভাল মার্কেটিং করে খারাপ জিনিস গছায় দেওয়া যায় ভালোভাবে, যদিও ইহা আমি শতভাগ অসমর্থন করে । 🙂

Leave a Comment

Your email address will not be published.

This will close in 0 seconds